বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» স্পটলাইট »ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী: বাংলাদেশকে ওরা ধ্বংস করতে চায়, পারবে না
ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী: বাংলাদেশকে ওরা ধ্বংস করতে চায়, পারবে না

Friday, 11 May, 2018 11:54pm  
A-
A+
ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী: বাংলাদেশকে ওরা ধ্বংস করতে চায়, পারবে না
বাংলাদেশ টাইম : বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা ক্ষমতায় থাকা মানে খুনি, স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ও দুর্নীতিবাজরা ক্ষমতায় থাকা। বাংলাদেশকে ওরা ধ্বংস করতে চায়। সেই চেষ্টাও তারা করেছিল, পারেনি। আগামীতেও পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবে না। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চলবে না। কোনো ধরনের ভাংচুর বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা যেই হোক, যে দলেরই হোক তাদের কেউ ছাড় পাবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সেভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, যারাই বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে। 

শুক্রবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। কাউন্সিলে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শনিবার ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে 'সাবজেক্ট কমিটি' বসবে। সমঝোতার মাধ্যমে নেতা নির্বাচন হোক, সেটাই তিনি চান। ত্যাগ ছাড়া বড় নেতা হওয়া যায় না। ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ২৮ বছর করার পরামর্শও দেন শেখ হাসিনা। 

দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের গতকালের এই সম্মেলন অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছিল। বিকেল সাড়ে ৩টায় সম্মেলন শুরুর কথা থাকলেও সকাল থেকেই সারাদেশ থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকরা সম্মেলনস্থলে আসতে শুরু করেন। বিভিন্ন যানবাহন ও ছোট-বড় অসংখ্য মিছিল নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেন তারা। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও অন্য সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে সম্মেলনস্থল ছাড়াও আশপাশের এলাকা জনারণ্যে পরিণত হয়। 

সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সম্মেলন মঞ্চ বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। সম্মেলনস্থলের আশপাশের সড়কসহ গোটা মহানগরীকেও পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা রঙের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়। নির্মাণ করা হয় সুদৃশ্য তোরণ। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই সম্মেলনে সারাদেশ থেকে সংগঠনের ১১০টি ইউনিটের ৪০ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট যোগ দিয়েছেন। 

বিকেল ৪টায় সম্মেলনস্থলে পৌঁছেই জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রী 'স্মৃতির পাতায় ছাত্রলীগ' গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পর দলীয় সঙ্গীত এবং মাতৃভূমি সাংস্কৃতিক সংসদের পরিবেশনায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। 

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা। আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী এনায়েত, সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান আরিফুর রহমান লিমন এবং অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ বাপ্পী। দু'দিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিন আজ শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। 

বক্তব্যের শুরুতে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন- বাঙালির ইতিহাসই ছাত্রলীগের ইতিহাস। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি এখন পর্যন্ত যত আন্দোলন-সংগ্রাম অর্থাৎ বাঙালির প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে ছাত্রলীগের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের তালিকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নামই বেশি। জাতির পিতার গড়া এই সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। 

এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনিও ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনিও অংশ নিয়েছেন। এ সংগঠনের বহু কর্মী জীবন দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে।

বিভিন্ন দলে যোগ দেওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অভিনন্দন জানাই। তবে দুর্ভাগ্য, কিছু কিছু নেতা বিপথে চলে গেছে। এখনও বিএনপিতে দু-চারজন খুঁজে পাওয়া যাবে। তারা বেইমান ও মোনাফেক। তারা আদর্শে বিশ্বাস করে না। তাদের কাছে আদর্শ কোনো বিষয় নয়। আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয়। আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করলে জনগণকে কিছু দেওয়া যায়।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সততা-নিষ্ঠা আর একাগ্রতা থাকতে হবে। ছাত্রলীগের যে মূলনীতি শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি, সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শান্তির বাণী নিয়ে প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে- এটাই আমরা চাই। 

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কাজে কেউ জড়িত থাকলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিস্কার করতে হবে। ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলে রাখা হয়েছে, মাদক ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। ছাত্রলীগের ছেলেদের বলব, রাস্তা কীভাবে পার হতে হয়, কীভাবে রাস্তায় চলতে হয়, সেটাও জানতে হবে। ট্রাফিক আইনটিও মানতে হবে সবাইকে। কেউ বাসে হাত কিংবা মাথা ঝুলিয়ে রাখবেন, আর সে হাতটি চলে গেলে দোষ হবে বিআরটিসির, চালকের- এটি হতে পারে না। 

এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও নিজ নিজ এলাকার নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করে তুলতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দরকার হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবা দিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কোথাও দুর্নীতি হচ্ছে কি-না, সেটাও দেখতে হবে। নেতা কেউ বানিয়ে দিলেই হবে না। নিজের কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেই নেতৃত্ব অর্জন করতে হয়। জাতির পিতার 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' এবং 'কারাগারের রোজনামচা' বই দুটি পড়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর মতো ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতি করতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতার বই দুটি যেমন পড়তে হবে, সেই আদর্শও বুকে ধারণ করতে হবে। 

সাম্প্রতিক কোটাবিরোধী আন্দোলনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে ভাংচুরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও তো আন্দোলন করেছি; কিন্তু ভিসির বাড়িতে ঢুকে লুটপাট ও ভাংচুর করা- এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোদিনই ঘটেনি। ভিসির বাড়িতে হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে অনেকে ধরা পড়েছে, ধরা পড়বে। লুটপাটে যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভিসির বাড়িতে আক্রমণ কিংবা শিক্ষকদের অপমান করা- বরদাশতও করা হবে না। 

এ সময় নানা দ্বন্দ্বে জড়িত শিক্ষকদেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকদেরও বলব, শিক্ষকরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লাগবেন, আর তার ফল ছাত্ররা ভোগ করবেন- সেটাও আমি চাই না। শিক্ষকদের কিছু বলার থাকলে বলবেন। আমি দিনে-রাতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাই। বাকি সময়টা তো দেশের কাজেই লাগাই। কেউ তো বলবে না, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা সমাধান করতে জানি; কিন্তু কোনো কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করা কখনও বরদাশত করব না। 

বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে কারও দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ইনশাআল্লাহ স্যাটেলাইট অবশ্যই উৎক্ষেপণ হবে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট আকাশে যাবে। আমরা যে আকাশও জয় করেছি- এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। অন্তত এটুকু বলব, কেউ যেন আবার এটা নিয়ে মন খারাপ না করে। মন খারাপ তারও (প্রধানমন্ত্রী) হয়েছিল, মাত্র ৪৬ সেকেন্ডের জন্য আমাদের স্যাটেলাইট উড়তে পারল না। তবে এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তারও কিছু নেই। আমরা এটা অবশ্যই পেয়ে যাব।

দুই মেয়াদে তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি বলেই আজ পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে করতে সম্ভব হয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। কথা দিয়েছিলাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব, সেই বিচার করেছি। অনেক উচ্চপর্যায় থেকে ফোন এসেছিল; কিন্তু সেই বিচার অব্যাহত থেকেছে। এই যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে খালেদা জিয়া লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। তার সরকার সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নশীল দেশ। বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। ২০২১ সালের মধ্যে দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। 

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP