বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» স্পটলাইট »জালিয়াতি করে কমরেড ফরহাদের বাড়ি বিক্রি
জালিয়াতি করে কমরেড ফরহাদের বাড়ি বিক্রি

Friday, 27 April, 2018 01:59pm  
A-
A+
জালিয়াতি করে কমরেড ফরহাদের বাড়ি বিক্রি
বাংলাদেশ টাইম : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদের বাড়ি জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে একাংশ। প্রখ্যাত এই রাজনীতিকের বাড়ি তার ওয়ারিশদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দিনাজপুরের বিশিষ্ট নাগরিকরা। 

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, তৎকালীন বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে কমরেড ফরহাদের ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। শুধু তাই নয়, স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন আন্দোলনের তিনি ছিলেন রূপকার। ১৯৮৬ সালে পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ওই সময় তিনি বিভিন্ন আইন পাস করেন, যার মধ্যে ছিল পাঁচটির বেশি আসনে কেউ নির্বাচন করতে পারবে না।

মোহাম্মদ ফরহাদের বাড়ি দিনাজপুরের ক্ষেত্রিপাড়া। এই বাড়িতেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন। এটা তার পৈতৃক বাড়ি। বাড়িটি ২৯ শতক জায়গার ওপর। ওনার বোন সুরাইয়া বেগম ওই বাড়িতে থাকতেন। বাড়িটি মোহাম্মদ ফরহাদের মা তৈয়বুন্নেছার নামে।

২০১১ সালে হঠাৎ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে ওই বোন জালিয়াতি করে পুরো বাড়িটি ওনার নামে রেজিস্ট্রি করে নেন এবং পেছনের ছয় শতক বিনোদ আগরওয়ালা নামের একজনের কাছে বিক্রি করে দেন। তিনি সেখানে বিল্ডিং করে বসবাস করছেন। সুরাইয়া বেগমের সঙ্গে ভাই, ভাইয়ের বউ, ভাতিজা-ভাতিজি এবং অন্যদের যোগাযোগ থাকলেও এ বিষয়ে তিনি কাউকে কিছু জানাননি বা কারও মতামত নেননি। উল্লেখ্য, বাসাটি জরাজীর্ণ হওয়ায় মোহাম্মদ ফরহাদ তার মায়ের সম্মতিতে সেখানে দুই রুমের একটি বিল্ডিং করেন দিনাজপুরে অবস্থানকালের জন্য। ওনার মা-ও বেঁচে থাকতে ওই বিল্ডিংয়ে থাকতেন। সুরাইয়া বেগমও থাকতেন। পরবর্তী সময়ে ফরহাদের মৃত্যুর পর ২০০৭ সালের দিকে সুরাইয়া বেগম কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ির ভেতরে আরও একটি তিনতলা বিল্ডিং করে বসবাস করেন এবং ভাড়া দেন। বর্তমানে মোহাম্মদ ফরহাদের করা বিল্ডিংসহ পুরো বাড়ি বিভিন্ন স্থাপনা করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ ফরহাদের স্ত্রী রাশেদা খানম দিনাজপুরে গেলে ওনাকে অন্যের বাসায় থাকতে হয়।

২০১৬ সালে মোহাম্মদ ফরহাদের বড় ভাইয়ের মেয়ে শাহীনা আলম দিনাজপুরে সুরাইয়া বেগমকে দেখতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। ঢাকায় এসে মোহাম্মদ ফরহাদের স্ত্রীকে ঘটনাটি জানালে তিনি লোক মারফত রেকর্ড বের করে দেখেন, কীভাবে সবার স্বাক্ষর জাল করে পুরো জায়গা জালিয়াতি করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করেছেন। এ রকম একজন স্বনামধন্য রাজনীতিবিদের স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে জালিয়াতির মাধ্যমে এহেন কাজ করা আইনের এবং সামাজিক দৃষ্টিতে গর্হিত কাজ। এখনও দিনাজপুরের ওই বাড়ি মোহাম্মদ ফরহাদের বাড়ি বলে সবাই জানেন এবং চেনেন। উল্লেখ্য, সুরাইয়া বেগম ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেছেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এক ছেলে কানাডা এবং অপর ছেলে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী। মেয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে থাকেন এবং দুই সন্তানের জননী তিনি। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী ছোট ছেলে জাকির হোসেন রানা বর্তমানে দিনাজপুরের ওই বাড়িতে অবস্থান করে সবকিছু দেখাশোনা করছেন।

এ ব্যাপারে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের স্ত্রী রাশেদা খানম উপরোক্ত বিষয়গুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের কাউকে না বলেই তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জালিয়াতি করে জবরদখল এবং বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

কেন্দ্রীয় উদীচীর সহসভাপতি রেজাউর রহমান রেজু জানান, বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের মতো একজন মানুষের বাড়ি দখল হয়ে যাওয়া, পৈতৃক সম্পত্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই দুঃখজনক। 

দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি চিত্ত ঘোষ জানান, সংগ্রামী ও ত্যাগী এই নেতার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তার বাড়ি আত্মসাৎ একটি বড় অন্যায়। কমরেড ফরহাদের স্মৃতিরক্ষার্থে হলেও তার বাড়িটি উদ্ধার করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের যা যা দরকার, তাই করা উচিত। 

বর্তমানে ওই সম্পত্তি দেখাশোনা করা সুরাইয়া বেগমের ছেলে জাকির হোসেন রানার সঙ্গে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় তার। 

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP