বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» স্পটলাইট »ইতিহাস গড়ছেন রাষ্ট্রপতি হামিদ
ইতিহাস গড়ছেন রাষ্ট্রপতি হামিদ

Tuesday, 24 April, 2018 01:31pm  
A-
A+
ইতিহাস গড়ছেন রাষ্ট্রপতি হামিদ
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের বিংশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন আবদুল হামিদ

বাংলাদেশ টাইম : টানা দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন মো. আবদুল হামিদ, যিনি ঠাট্টাচ্ছলে বঙ্গভবনকে তুলনা করে থাকেন জেলখানার সঙ্গে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসাবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি।

তবে কেবল আবদুল হামিদই টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। সংবিধানে সর্বোচ্চ দুই বার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সুযোগ থাকায় এটাই হবে তার শেষ মেয়াদ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে স্পিকার শিরীর শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের বিংশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন আবদুল হামিদ। আর একবিংশতম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সেই একই তারিখে শপথ নিচ্ছেন তিনি।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। লাল সবুজ বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো বঙ্গভবন। ভেতরে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন রকমের ফুল দিয়ে।

দরবারের পাশে বঙ্গভবনের মাঠ সংলগ্ন বারান্দায় করা হয়েছে অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সোমবার পুরো অনুষ্ঠানের মহড়াও দিয়েছেন।

প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বঙ্গভবনের নিয়ন্ত্রিত জীবন নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হওয়া আবদুল হামিদ।

তার ভাষায়, তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিকদের জন্য বঙ্গভবনের নিয়ন্ত্রিত জীবন ‘সব সময় আরামদায়ক’ নয়।

“খাঁচার পাখিরে যতই ভালো খাবার দেয়া হোক, সে তো আর বনের পাখি না। আমি একটা দায়িত্ব হিসেবে এখানে এসেছি। সংসদে মনের খোরাক পেতাম, বঙ্গভবনে পাই না। মনটা অনেক কিছু চায়।”

প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার পর এক অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনের পরিবেশ নিয়ে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেছিলেন, “জিয়াউর রহমানের আমলে জেলে ছিলাম। এখনও জেলে আছি। পার্থক্য আগে স্যালুট দিত না, এখন দেয়।”
কিশোরগঞ্জের আবদুল হামিদ ১৯৯৬ সালে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর স্বভাবজাত হাস্যরস দিয়ে সংসদ মাতিয়ে তুলে বেশ জনপ্রিয়তা পান।

পরে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক মেয়াদে সংসদ উপনেতাও ছিলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর নিয়ম অনুসারে দলের সঙ্গে তার সম্পর্কচ্ছেদ ঘটাতে হয়।

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্ম নেয়া আবদুল হামিদ কৈশোরেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।   

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে আবদুল হামিদকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের  ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ এর  ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসাবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ। আর নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন।
২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর বঙ্গভবনের বাসিন্দা হন আবদুল হামিদ। এই দায়িত্বে ধরাবাঁধা নিয়মের ছকে থেকেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান স্বভাবসুলভ হাস্যরসের মধ্যে দিয়ে তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের খুব কাছে। 

‘মিতব্যয়ী’ আবদুল হামিদ প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর চিকিৎসার জন্য বাইরে গিয়ে নিজের এবং সফরসঙ্গীদের খরচ কমিয়ে সংবাদের শিরোনামে আসেন।

২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “বিদেশ সফরে হোটেলের ভাড়া কমিয়েছি। সিঙ্গাপুরে আমার হোটেলের ভাড়া ছিল ৬ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার। সেটা কমিয়ে ৬০০ ডলারে এনেছি। স্পিকার থাকার সময় একা যেতাম। এখনতো আর সে উপায় নেই। সফরসঙ্গীদের হোটেল ভাড়াও অর্ধেক করেছি।”

রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বেড়ে যাওয়া নিয়েও কথা বলেছেন আবদুল হামিদ। ২০১৫ সালের অক্টোবরে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা দেশের জন্য ‘কলঙ্কজনক’।

রাষ্ট্রপতি হামিদের মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় গত ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন দাখিলের দিন একমাত্র আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্রই জমা পড়ে।

বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর শুধু ১৯৯১ সালেই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হয়েছিল। এরপর সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP