বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» স্পটলাইট »৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে নৈরাজ্য
৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে নৈরাজ্য

Sunday, 22 April, 2018 02:37am  
A-
A+
৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে নৈরাজ্য
বাংলাদেশ টাইম :  যাত্রী কল্যাণ সমিতি দাবি করেছে, রাজধানীতে চলাচল করা আট হাজার মিনিবাস-বাসের ৮৭ শতাংশই অনিয়মে জড়িত। 

সংগঠনটির আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, যত্রতত্র থামানো, যাত্রীর জন্য প্রতিযোগিতা ও রেষারেষিতে সড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুপথে। ঢাকার সড়কে প্রাণহানি দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। 

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সড়কে নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনা উত্তোরণের উপায়’ র্শীষক এক গোলটেবিল আলোচনায় দাবি করা হয়, সারাদেশে দৈনিক ৬৪ জনের মৃত্যু হয় সড়কে। আহত হন অন্তত ১৫০ জন। 

সমিতির সমীক্ষার বরাতে বলা হয়, সারাদেশে নিবন্ধিত ৩১ লাখ যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনিবন্ধিত, ভুয়া নম্বরধারী ও অযান্ত্রিক যান চলছে আরো প্রায় ১৯ লাখ যানবাহন। ৫০ লাখ যানবাহনের ৭২ শতাংশের ফিটনেস নেই। সারাদেশে ৭০ লাখ চালকের মধ্যে লাইসেন্সধারী মাত্র  ১৬ লাখ। 

পর্যবেক্ষণের বরাতে জানানো হয়, রাজধানীতে ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এক হাজার ৭৭৯টি দুর্ঘটনায় এক হাজার ৮৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ হাজার ৪৭৭ জন আহত হয়েছেন। 

এমন নৈরাজ্যকর অবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে সনাতন পদ্ধতিতে জরিমানা আদায় করছে বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ। পরিবহনে চাঁদাবাজি, টোকেনবাজির মহোৎসব চলছে। প্রকৃত মালিক ও শ্রমিকদের কোনঠাসা করে সরকারের লেজুরভিত্তিক সংগঠন পরিবহনখাতে চাঁদাবাজি ও পারমিট বাণিজ্য করছে। 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মানবাধিকারের প্রধান শর্ত বেঁচে থাকার অধিকার। সড়কে তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। 

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বাসকে শৃঙ্খলায় আনতে একটি পরিকল্পনা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। তা বাস্তবায়ন হলে নৈরাজ্য বন্ধ হবে।

গণসংহতি’র সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, সমস্যার সমাধান চিহ্নিত করা হয়েছে কিন্তু কায়েমি স্বার্থ রক্ষায় বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রাখা হয়েছে। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, অধিকাংশ চালক মাদকাসক্ত। মাদকের হাত থেকে পরিবহনখাতকে রক্ষা করা না গেলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়বে। 

ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, আইন না মানার কারণে সড়কে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে।

সভাপতির বক্তৃতায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়কে মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নগরীর প্রতিটি বাস-মিনিবাসের ব্যবসা চালকরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। দৈনিক চুক্তিভিক্তিক ইজারায় মালিকরা বাস তুলে দেন চালকের হাতে। এ কারণে চালকরা যাত্রী ধরার জন্য বাসে ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। 

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১০ দফা সুপারিশ করা হয়। প্রতিযোগিতা বন্ধে একটি রুটে একই কোম্পানির বাস সার্ভিস চালু করা, গণপরিবহন সার্ভিস কর্তৃপক্ষ গঠন, ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম জবাবদিহিতার আওতায় আনা,  দৈনিক জমাভিক্তিক বাস চালানো বন্ধ করা, চাঁদাবাজী ‘টোকেন বাণিজ্য’ বন্ধ করা, রুট পারমিট দেওয়ার আগে মালিক শ্রমিক নেতাদের পরিবর্তে পেশাদার ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে আরটিসি পুনর্গঠন করার সুপারিশ করা হয়।

এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP