বাংলাদেশ টাইম

প্রচ্ছদ» স্পটলাইট »১০টাকা কেজি চাল : স্বচ্ছলদের নাম বাদ দেওয়ার হিড়িক
১০টাকা কেজি চাল : স্বচ্ছলদের নাম বাদ দেওয়ার হিড়িক

Saturday, 15 October, 2016 10:15am  
A-
A+
১০টাকা কেজি চাল : স্বচ্ছলদের নাম বাদ দেওয়ার হিড়িক
ডেস্ক : সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০টাকা কেজির চাল বিতরণে বিভিন্ন জেলা থেকে আরো অনিয়মের অভিযোগ আসছে। কোনো কোনো স্থানে অনিয়মের অভিযোগে চাল বিতরণ বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। অনিয়ম করে তালিকায় যেসব সচ্ছল ব্যক্তির নাম দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও বাদ দেওয়ার হিড়িক পড়েছে কোনো কোনো জেলায়।
বিভিন্ন জেলা সংবাদদাতা এসব তথ্য জানিয়েছেন। 
 
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে হতদরিদ্রদের তালিকায় প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠায় গত এক সপ্তাহ ধরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এরপর থেকে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম কর্তনের হিড়িক পড়ে যায়। উপজেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এ ধরনের একশ ২৫ জনের নাম হতদরিদ্রদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এটিএম সাজ্জাদুর রহমান জানান, ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি  সদস্যদের ৭ দিনের মধ্যে খাদ্যবান্ধন কর্মসূচি থেকে সচ্ছল ব্যক্তির নাম কর্তন করে অসচ্ছল ব্যক্তির নাম তালিকায় সংযুক্ত করে জমা দেওয়ার নির্দেশ  দেওয়া হয়েছে।
 
দৌলতপুরে ডিলার আটক : মানিকগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, দৌলতপুর উপজেলায় চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আশরাফুল হক মিন্টু নামে এক ডিলারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মানধারতা বাজারে ওই ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, হতদরিদ্রদের জন্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল প্রাপ্তির কার্ডধারীরা নিয়মিতভাবে ওই চালের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে স্থানীয়দের মধ্যে চাল বিক্রি করেছেন মিন্টু। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে চাল বিক্রির সময় তাকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে থানা পুলিশ মিন্টুকে উদ্ধার করে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান জানান, আটক মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে থানায় আনা হয়েছে।
 
ফুলবাড়িতে ৪টি কার্ডের চাল বিতরণ বন্ধ : ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, এখানে চাল বিক্রির তালিকা প্রণয়নে অনিয়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রক্ষিতে গতকাল শুক্রবার শিবনগর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর এলাকায় চাল বিক্রি পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ৪টি কার্ডের চাল বিক্রি বন্ধ করে দেন ইউএনও মো. এহেতেশাম রেজা।
 
যাদের কার্ডের চাল সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে তারা হলেন ঐ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মজিবর রহমান, একই ওয়ার্ডের রিপন চন্দ্র, ৯নং ওয়ার্ডের আব্দুস সাত্তার ডিসি ও একই ওয়ার্ডের বিপ্লব। ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব বলেন, কিছু ইউপি সদস্য প্রকৃত হতদরিদ্রদের তালিকা না দিয়ে নিজেদের পছন্দের  কিন্তু দুস্থ নয় এমন লোকের নামের তালিকা দেওয়ায় সেগুলো কেটে প্রকৃত ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। 
 
ইউপি সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের হাতে কার্ড : গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা জানান, গাংনীতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার পরিবারের নিকটাত্মীয়, গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি, সচ্ছল পরিবারের সদস্য, ক্ষমতাসীন দলের নেতা- কর্মীদের হাতে চালের কার্ড দেখা গেছে। এখানকার কার্ডধারীরা অভিযোগ করেছেন, গোডাউন থেকে চাল ওজনে কম পাওয়ার অযুহাতে ডিলাররা ৩০ কেজির স্থলে ২৭ থেকে ২৮ কেজি করে চাল দিচ্ছে। জানা গেছে, বাথানপাড়ার মেম্বার তার গ্রামের কার্ডগুলি নিজের দায়িত্বে রেখে কার্ডপ্রতি ১ হাজার করে টাকা উত্তোলন করেছেন। নওদাপাড়ার মেম্বার, মহিলা মেম্বর ও সাহেবনগরের মেম্বর হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। নওদাপাড়া বাজারপাড়ার হতদরিদ্র খবিরউদ্দীন পাগল, রাস্তার মাটিকাটা শ্রমিক আম্বিয়া খাতুন, কমেলা, পারুল খাতুন, সাহেবনগরের সাবিনা ,কাজীপুরের করিমন নেছাকে কার্ড দেওয়া হয়নি।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামান জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নের ডিলারদের চাল বিতরণ মনিটর করার জন্য ইতোমধ্যে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম, অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ঘোড়াঘাটে তালিকায় ব্যাপক দুর্নীতি : ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, এখানে চাল বিতরণের জন্য যে তালিকা করা হয়েছে তাতে  ইউপি সদস্যের ভাই, ভাতিজাসহ ১৩ জন রয়েছেন। উপজেলা খাদ্য কমিটি এসব তালিকা চুড়ান্ত অনুমোদন করে উপজেলা খাদ্য অফিসের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউপি সদস্য বজলুর রশিদ তার তালিকায় তার আপন ৭ ভাই যথাক্রমে হারুনুর রশিদ ক্রমিক নং-১, মামুনুর রশিদ ক্রমিক নং-৪, আনিছার রহমান ক্রমিক নং-৫, আয়নাল হক ক্রমিক নং-৬, এনামুল ক্রমিক নং-৮, এমদাদুল ক্রমিক নং-১১ ও একরামুল ক্রমিক নং-১২-কে কার্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া আপন চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর ক্রমিক নং-৩, মজিবুর রহমান ক্রমিক নং-২, সারোয়ার ক্রমিক নং-১৪ ও ভাতিজা মোতালেব ক্রমিক নং-৭, রায়হান ক্রমিক নং-১৩, মোসাদ্দেক ক্রমিক নং-১৫-কে কার্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি স্বামী ও স্ত্রীর নামে আলাদা আলাদা কার্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন আবু তাহের ক্রমিক নং-১৬, স্ত্রী শাপলা ক্রমিক নং-১৭, ইসমাইল ক্রমিক নং-২১, স্ত্রী আছিয়া ক্রমিক নং-১৮, আনিছার ক্রমিক নং-৫, স্ত্রী ফুলমালা ক্রমিক নং-২৬, নায়েব আলী ক্রমিক নং-৪৫, স্ত্রী সিদ্দিকা ক্রমিক নং-৪৬, মোস্তফা ক্রমিক নং-৫৬, স্ত্রী রুমি ক্রমিক নং-৬০, আরব আলী ক্রমিক নং-২০, স্ত্রী সাহেরা ক্রমিক নং-৭০, নজমেল ক্রমিক নং-৭৭, স্ত্রী মাহফুজা ক্রমিক নং-১৩১, সেলিম ক্রমিক নং-১২৯, স্ত্রী আঞ্জুয়ারা ক্রমিক নং-১১৫।
 
কিশোরগঞ্জে চাল পায়নি হতদরিদ্ররা : কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, উপজেলার রেশনিং কার্ডের মাধ্যমে চাল পাচ্ছেন না হতদরিদ্ররা। সেপ্টেম্বর মাসের পহেলা তারিখ থেকে এ কর্মসুূচি চালু হওয়ার কথা থাকলেও দলীয় কোন্দল, ডিলার নিয়োগে জটিলতা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাঝে কোন্দলের কারণে এ কর্মসূচি চালু করা যাচ্ছে না।  জানা গেছে, এ উপজেলায় ২২ হাজার ২৩৪ জন হতদরিদ্রকে রেশনিং কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডিলার নিয়োগ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ডিলার নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান জানান, আমি সভাপতি ঠিকই কিন্তু আমার কোনো গতি নেই। সবই এমপিরা করবেন।
 
বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, নিয়ম ছাড়াই চাল বিক্রির অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ডিলারদের অনিয়ম বন্ধের নির্দেশ দেন। সদর ইউনিয়নে চাল বিক্রির জন্য প্রশাসন শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। অভিযোগ রয়েছে পাটের বস্তাসহ চাল ওজন করে দেওয়া হয়। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ধার্য দিন ছাড়া অন্য দিনে চাল বিক্রি এবং বস্তাসহ চাল ওজন দেওয়ার অভিযোগটি জানার পর তাদের বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।


এই ধরনের আরও পোস্ট -
   

আরও খবর

TOP